নতুন’ স্বপ্ন জাগাচ্ছে বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম
শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম’—নামের সঙ্গে মিশে আছে বাংলাদেশের টেস্টের স্মৃতি। একসময় দেশের হাতেগোনা কয়েকটি টেস্ট ভেন্যুর মধ্যে একটি ছিল বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী এ স্টেডিয়াম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দেড় যুগ ধরে নেই কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয় স্টেডিয়ামটি। তবে এবার নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমীরা। ২০০৬ সালের পর আবারও সেখানে ফিরবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ—এমনটাই চাওয়া তাদের।
আইসিসির স্বীকৃতি থাকা মাঠটিতে নেই কোনো ম্যাচ। স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ বিল রয়েছে বকেয়া, স্টাফ বেতন পরিশোধ থাকলেও আউটফিল্ড, ইনডোর, জিমনেশিয়াম প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক নেতৃবৃন্দ বলছেন, বগুড়ার স্টেডিয়ামটি শুধু রাজনৈতিক কারণে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। এই মাঠের উইকেট অত্যন্ত ভালোমানের হওয়ার পরও বিসিবির নেতৃবৃন্দ মাঠটি সরে নিয়ে যায়। বগুড়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের আইসিসির স্বীকৃতি তুলে নেওয়ার আগেই সিলেটে নির্মাণ করা হয় স্টেডিয়াম। তাদের দাবি, লাখ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে আছে। ফ্লাডলাইট স্ট্যান্ড থেকে উন্নতমানের লাইটগুলোও খুলে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই মাঠে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের দাবি তাদের।
বগুড়ার ক্রিকেটপ্রেমীরা জানান, ক্রিকেটকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা নয়; বগুড়ার মতো অন্যান্য জেলায়ও আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ দিতে হবে। ক্রিকেটকে আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে আরও বেশি ক্রিকেটের কাছে আসতে পারবে তরুণ প্রজন্ম।
বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক নির্বাহী সদস্য ও ক্রীড়া সংগঠক অ্যাথলেট শাজাহান আলী বাবু জানান, বগুড়ার এ স্টেডিয়ামটি নষ্ট করেছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারা বগুড়াকে কুক্ষিগত করার জন্য ইচ্ছা করে একটি জীবন্ত মাঠের মৃত্যু ঘটিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় থাকা এ স্টেডিয়ামের সংস্কার নেই, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সুইমিংপুল বন্ধ, ইনডোরের অবস্থা খুবই খারাপ, পিচ ঠিক থাকলেও এর আউটফিল্ডের অবস্থা নাজুক।
বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জানান, ‘ঢাকার বাইরে যেসব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম আছে, তার মধ্যে বগুড়া উল্লেখযোগ্য। বগুড়ার আবাসন ব্যবস্থা এখন অন্য জেলার চেয়ে অনেক উন্নত। বগুড়ায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের হোটেল চালু রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্টেডিয়ামের চেয়ে বগুড়ার স্টেডিয়ামের যোগাযোগসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বেশি রয়েছে। তার পরও বগুড়ার এই স্টেডিয়ামকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে এই বঞ্চনার শিকার হয়ে এসেছে।’
স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের একমাত্র টেস্ট ভেন্যু হলো বগুড়া। এখানে উন্নতমানের উইকেট থাকায় ভালো কিছু হওয়া সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে অবকাঠামোগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। কিছু ভবন ও গ্যালারির সংস্কার প্রয়োজন। মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্যও কিছু কাজ করতে হবে।’
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৬২ সালে বগুড়া শহরে নির্মিত হয় শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। ১৯৭০ সাল থেকে ফুটবল, ক্রিকেটসহ স্থানীয় বিভিন্ন টুর্নামেন্টের খেলা হতো সেখানে। তবে ২০০৩ সালে প্রথমবার স্টেডিয়ামটির ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এক বছর পরই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় স্টেডিয়ামে কার্যক্রম। আইসিসি থেকে স্বীকৃতি মেলার পর সেখানে একটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
কানপুরে পা রাখার আগেই খবরটা ছিল চমকে যাওয়ার মতো। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্ট ঘিরে ধর্মঘট ডেকে বসে স্থানীয় সংগঠন হিন্দু মহাসভা। তবে কানপুর শহরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে তেমন কিছুই চোখে পড়েনি। যে যার দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। উল্টো তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে দর্শকদের মধ্যে টিকিট পেতেও এক প্রকার প্রতিযোগিতা দেখা গিয়েছে। এমন হুমকির মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চারপাশ ঘিরে রেখেছেন তারা। নির্দিষ্ট পোশাকের বাইরেও সাদা পোশাকে মিলেছিল অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখা।
চেন্নাই থেকে কানপুর আসার পর একদিন হোটেলেই কাটিয়েছিলেন রোহিত শর্মা, নাজমুল হোসেন শান্তরা। বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন করেন তারা। এ সময় কানপুর গ্রিন পার্ক স্টেডিয়ামের আশপাশে সরেজমিন ঘুরে দেখেছে কালবেলা। তেমন কোনো বিক্ষোভ কিংবা লোক জড়ো হওয়ার ঘটনা দেখা যায়নি। তার পরও স্টেডিয়ামের প্রতিটি গেটে ছিল পুলিশের কঠোর সতর্ক অবস্থান। মাঠে প্রবেশের কার্ড থাকার পরও বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট পেরিয়ে স্টেডিয়ামে আসতে হয়েছিল মাঠকর্মী থেকে শুরু করে সংবাদকর্মীদেরও।
গ্রিন পার্কের ড্রেসিংরুমের পাশে ও ওপরের গ্যালারিতে কয়েকশ নিরাপত্তাকর্মী দেখা গেছে। মাঠে বেশ কয়েকবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সরব উপস্থিতির দেখা মেলে। নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছিলেন উত্তর প্রদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিসিপি রাজেশ শ্রীবাস্তব। পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ শেষে তিনি জানিয়েছেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছেন তারা। রাজেশ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘এখানে তিন ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। একটি হচ্ছে আইসোলেশন কর্ডন যেটি মাঠ, পিচ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা দিচ্ছে। বাকি দুটি ধরনের মাধ্যমে প্যাভিলিয়নসহ স্টেডিয়ামের রাস্তাসহ আশাপাশের এলাকায় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কর্ডনই তিন-চারটি ভাগে বিভক্ত। কাজ করছে এক হাজার পুলিশ, ক্যামেরা রয়েছে একশর মতো।’
কানপুর টেস্ট ঘিরে হুমকি থাকলেও পুলিশ খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। প্রচুর নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকায় কোনো সমস্যাও দেখছেন না পুলিশের এই কর্মকর্তা, ‘হুমকি নিয়ে অনেক ধরনের তথ্য আছে। এগুলো কিছু বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ডে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো ফাঁকি দিয়ে বের হওয়া অসম্ভব। তাই বলতে পারি কোনো উদ্বেগ নেই।’ বাংলাদেশ টিমের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা নেই বলে জানানো হয়। সবকিছু দেখভাল করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
Comments
Post a Comment